সৌর ঝড় কত বছর অন্তর দেখা যায়---আমরা জানি সূর্যের একটি চক্র রয়েছে যা ১১ বছরের জন্য।সূর্য প্রতি ১১ বছর পরপর ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর বিপরীত দিকে ঘুরে যায় এবং সেই হিসাব মতে প্রতি 22 বছর পর পর এটা পৃথিবীর দিকে ঘুরে যায়। 

সৌর ঝড় কত বছর অন্তর দেখা যায়

তাই বলতে পারি সৌর ঝড় মূলত 22 বছর পরপর হয়ে থাকে অর্থাৎ সূর্য 11 বছর পর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের বিপরীতে ঘুরে এবং সে হিসেব মতে বাইশ বছর পর সূর্য পৃথিবীর দিকে ম্যাগনেটিক ফিল্ড হিসেবে ঘুরপাক খায় এ কারণে সৌর ঝড় মূলত 22 বছর পরপর হওয়ারই কথা। 

তাই বলা যায় প্রতি 11 তম বছরে সূর্যের কলঙ্কের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে যায় এবং সূর্যের বহিঃস্তরের উচ্চতার যুক্ত প্লাজমার আবরণ থেকে যে তাপদাহ বাড়িতে বেরিয়ে আসে সেগুলো সৌরজগতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আর আমরা একে এক কথায় সৌর ঝড় বলে থাকি। 


সৌর ঝড় কত বছর অন্তর দেখা যায়


সৌর ঝড় এই ঘটনাটি ঠিক তখনই ঘটে যখন সূর্যের বাঁকানো চৌম্বক ক্ষেত্র গুলো একটি আরেকটি কে অতিক্রম করার চেষ্টা করে এবং পুনরায় সেটি আবার যুক্ত হয়। 


সৌর ঝড় এর বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় 10 মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়ে থাকে যা এক মিলিয়ন আণবিক এবং পারমাণবিক বোমার শক্তির সমপরিমাণ। 


আমরা পৃথিবী থেকে সৌরজগতে ঘটে যাওয়া প্রতিনিয়ত এরকম সৌর ঝড় আমাদের খালি চোখে ধরা পড়ে না। 


তবে পৃথিবী থেকে যদি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দেখা যায় তাহলে কিছু কিছু অন্ধকার জায়গা দেখা যায় এবং সেই অন্ধকার জায়গাকে বলা হয় সৌর কলঙ্ক। 


সূর্যের কেন্দ্রের ভিতর যে শক্তির উৎপত্তি হয় তা আলোক মন্ডলের উপরিভাগে পৌঁছাতে সময় নেয় 10 লক্ষ বছরের মতো এবং সেখানকার উচ্চতার কারণে প্লাজমায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে থাকে। 

এবং এর ফলে আলোক মন্ডলের ফাঁকা জায়গা দিয়ে সূর্যের ছটায় কালো কালো দাগ ফুটে ওঠে এবং সেগুলি সৌর কলঙ্ক নামে পরিচিত কেউ কেউ আবার মনে করেন সূর্যের যে অঞ্চলগুলিতে কালো কালো দাগ দেখা যায় সেই অঞ্চলগুলিতে সূর্যের আশেপাশের উজ্জ্বল অংশের তুলনায় এর উষ্ণতা অনেক কম। 

তাই সৌর কলঙ্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় সৌর ঝড় এবং সৌর শিকার তাই এই শিক্ষাগুলি সৃষ্টি হয় সম্ভবত সৌর কলঙ্কে চুম্বক ক্ষেত্রে বিলিয়ন বিলিয়ন বিস্ফোরণের কারণে। 


এবং এই সময়ে যে উষ্ণ গ্যাসের স্রোত বহো শুরু করে তাকে বলা হয় করণাল মাচ ইজ একশন বা সংক্ষেপে সিএম এবং পৃথিবীর তাসফিয়ার চুম্বকীয় বলে আঘাত হানা শুরু করে সেই সৌরঝড়ের চার্জযুক্ত কণাগুলো এবং কিছু দুই মেরুর দিয়ে পৃথিবীর আকাশে প্রবেশ করে এবং বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে জ্বলে যায়। 

এবং ঠিক তখনই দুই মেরুর আকাশে রঙিন আলোর বর্ণ ছাটা তৈরি হয় এবং উত্তর মেরুতে আলোর এই বিচিত্র খেলার নাম আবারও বালিবিরিজ এবং দক্ষিণ মেরুতে এই খেলার নাম অস্ট্রেলিয়া। 


সৌর ঝড় মূলত পৃথিবীর চৌম্বকীয় বলয় বাধাপ্রাপ্ত করে এবং এর কারণে পৃথিবীর তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে না তবে মাঝে মধ্যে এর প্রভাব বিমান এবং কৃত্রিম উপগ্রহ উপর পড়ে এবং প্রযুক্তি এবং আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাধাগ্রস্থ করে এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। 

আশাকরি আমাদের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনি সৌর ঝড় কি এবং সৌর ঝড় কত বছর অন্তর অন্তর হয় সেই বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গিয়েছেন সৌরজগৎ সম্পর্কে আমাদের আরও আপডেট আর্টিকেল পেতে হলে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমাদের গুগোল নিউজ ফলো করে রাখুন। 

Leave a Comment

Thanks